পাবনায় সিজার করাতে গিয়ে প্রাণ গেল বিলকিসের—
পর্ব ২:
প্রসূতির মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
খালেদ আহমেদ :
পাবনার পুঙ্গলি ইউনিয়নের দত্ত পুঙ্গলি শালকে পাড়া গ্রামের বিলকিস খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আল-শেফা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকেরা।
ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে নিহতের বাড়িতে যেতে সাংবাদিকদের অনেক রাত হয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছালে সেখানে রানি খাতুন নামে একজন আয়া এবং রিমা খাতুন নামে একজন সিস্টারকে পাওয়া যায়।
তাঁরা হাসপাতালের মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও মালিকপক্ষের কেউ সামনে এসে বক্তব্য দেননি। দীর্ঘ চেষ্টার পর সিস্টার রিমা খাতুন মালিক মেহেদী হাসানের একটি মুঠোফোন নম্বর দেন। ওই নম্বরে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে আরও একটি নম্বর চাইলে রিসেপশনের নম্বর দেওয়া হয়। সেখানে কল করলে রিমা খাতুনের কাছেই ফোনটি বেজে ওঠে। তখন তিনি জানান, নম্বরটি বর্তমানে তাঁর কাছে রয়েছে সকালে রিসেপশনিস্টের কাছে থাকবে, তখন যোগাযোগ করতে বলেন।
সাংবাদিকেরা পরে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে আরও কয়েকটি নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। সেসব নম্বরেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার জন্য আবারও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করা হয়নি। হাসপাতালের শেয়ারধারী মালিকদের মধ্যে মেহেদী হাসান, আব্দুল হাকিম ও আসাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁদের কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
তবে রিসেপশনের নম্বরে মামুন নামে একজন ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। পরে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মালিকপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তাঁরা ব্যস্ত আছেন সময় পেলে যোগাযোগ করবেন।
এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার সময় হাসপাতালে কারা দায়িত্বে ছিলেন, তা তাঁরা নিশ্চিতভাবে জানেন না। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি দাবি করেন, সেখানে দুজন পুরুষ ও একজন নারী চিকিৎসক ছিলেন। পাশাপাশি রত্না ও রিমা নামের দুজন নারীসহ আরও একজন নারী উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি জানান।
তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নাম, তাঁদের পেশাগত যোগ্যতা, নিবন্ধন, অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে কে ছিলেন এবং রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
একজন প্রসূতির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক, অ্যানেসথেশিয়া প্রদানকারী, সহায়ক স্বাস্থ্যকর্মী এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব কার ছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
একই সঙ্গে রোগীর ভর্তি-সংক্রান্ত কাগজপত্র, আল্ট্রাসনোগ্রামের প্রতিবেদন, রক্ত পরীক্ষার ফল, অস্ত্রোপচারের নথি, ওষুধ প্রয়োগের বিবরণ, রোগীর গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক লক্ষণের রেকর্ড এবং অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তরের সময়কার তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আব্দুর রশিদ সুপার মার্কেটের ওই প্রতিষ্ঠানের আগের নাম ছিল লাইফ কেয়ার হাসপাতাল। পরে সেটির নাম পরিবর্তন করে আল-শেফা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার রাখা হয় বলে জানানো হয়েছে।
তবে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া, বর্তমান লাইসেন্স ও অনুমোদনের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাসেবা পরিচালনার বৈধতা সম্পর্কে যাচাই করা কোনো নথি এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
তাই প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান লাইসেন্স, অনুমোদিত শয্যাসংখ্যা, অস্ত্রোপচার পরিচালনার অনুমতি, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের নিবন্ধন এবং প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসাসুবিধা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের যাচাই প্রয়োজন।
রোগীর মৃত্যুর মতো গুরুতর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় প্রশ্নগুলোর নিষ্পত্তি হয়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সিএনএফ টিভি
আমাদের দৃষ্টি জুড়ে বাংলাদেশ

Comments
Post a Comment