জামাতের দুর্গ ভেঙে পাবনা-৫ পুনরুদ্ধার শিমুল বিশ্বাসকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার দাবি
নুর আল সাফায়াত পাপন :
পাবনা জামাতে ঘাটি হিসেবে সব সময়ই বিবেচিত ছিল। পাবনার সাথিয়া-বেড়া আসনে মতিউর রহমান নিজামী ও সদর আসনে মোওলানা আব্দুস সোবহান একাধিকবার এমপি মনোনিত হয়েছে।
পাবনা সদর( পাবনা-৫) আসনের জামাতে সেই দূর্গ ভেঙ্গে এবার বিএনপি মনোনিত এ্যাড. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিজয়ী হয়েছে।
এ্যাড. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এই বিজয়ের আগে পাবনা সদর আসন থেকে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী বীর মুক্তিযুদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল একবার বিজয়ী হয়েছিল।
১৯৯৬ সালে রফিকুল ইসলাম বকুলের নির্বাচিত হওয়ার প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল। আওয়ামীলীগের অন্তকন্দোলের কারনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি (১৯৮৬) রফিকুল ইসলাম বকুল আওয়ামীলীগ থেকে বিশাল কর্মী নিয়ে বিএনপিতে যোগ দান করেন এবং বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হোন।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও পাবনা সদর আসন থেকে কেউ কখনওই মন্ত্রীত্ব পাননি। ১৯৭ বছর বয়সী একটি জেলা আজও আধুনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ১৮২৮ সালের ১৬ অক্টোবর পাবনা একটি স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
ঠিক একই ভাবে পাবনা পৌরসভার বয়স প্রায় ১৫০ বছর। এটি ১ জুলাই ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন একটি পৌরসভা।
পাবনা -৫ আসন এমন একটি আসন যেখানে জামাত ও আওয়ামীলীগ বারবার নির্বাচিত হয়ে এসেছে, সেই জামাতের ঘাটি থেকে তীব্র প্রতিযোগীতার মাধ্যমে শুধু মাত্র ব্যাক্তি শিমুল বিশ্বসের ওজনের কাছে জামাত ২০ হাজার ভোটে পরাজিত হয়।
নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে আমরা প্রতিটি গ্রামে-গঞ্জে ইউনিয়নে গিয়ে ভোটারদের বুঝিয়েছি, শিমুল বিশ্বার একজন জাতীয় নেতা, সারা বাংলাদেশের মানুষ তাকে চেনে। বিএনপির ত্যাগী নেতার তালিকাতেও তিনি উপরের দিকেই থাকবেন।
বেগম খালেদা জিয়ার সন্তানতুল্য স্নেহধন্য এবং বিএনপির রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, তাকে নির্বাচিত করলে তিনি কনফার্ম মন্ত্রী হবেন। পাবনা -৫ আসন এবারই প্রথম মন্ত্রীত্ব পাবে।
শিমুল বিশ্বাস একজন সৎ মানুষ, কারন তিনি জোট সরকারের আমালে( ২০০২-২০০৬) ৫ বছর BIWTC তে চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি লোকসানে বা ঋণে জর্জরিত ছিল। পরবর্তীতে তাঁর মেয়াদ শেষে তিনি সংস্থাটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন এবং ফান্ডের উদ্বৃত্ত হিসেবে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা সঞ্চয়/ফান্ডে রেখে এসেছিলেন।
২০২৪ এর জুলাই ছাত্র -শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বিজয় ছিনিয়ে আনতে গোটা জুলাই জুড়ে শ্রমিকদের দলে দলে রাজপথের প্রতিরোধ লড়াইয়ে নির্ভিকভাব সন্মুখ ভাগে থেকে নেতৃত্বে দেন।
জুলাই গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী ফ্যাসিষ্টদের সহযোগিতায় দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রয়াসে বিভিন্ন মিল কল-কারখানা ও গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির করে, ওষুধ কারখানা গার্মেন্টস বন্ধ হতে শুরু করে। তখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের নির্দেশে শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এর নেতৃত্বে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ বিভিন্ন শিল্পকল কারখানায় নৈরাজ্য ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক সমাবেশ ও শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে ফ্যাক্টরির বাইরে পাহারা বসানো হয়।
নির্বাচন নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দর, বেলপথ, সড়ক পথ , গার্মেন্টস সচল রাখা, দপ্তর অধিদপ্তরের পরিবেশ স্বাভাবিক রেখে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এমন একজন পরীক্ষিত মানুষকে বিএনপি সরকার কেনো ব্যবহার করছে না, তা আমার মাথায় ঢুকে না।
কাউকে ছোট করবো না, তবে অনেক কম যোগ্য ও কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মন্ত্রীত্ব দেওয়া হয়েছে। জামাতের কাছ থেকে বহু কষ্টে ছিনিয়ে আনা এই আসনটি বিএনপির আসন হিসেবে পুন:প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে মন্ত্রিত্ব দেয়া প্রয়োজন।
কারণ তিনি যোগ্য, পরিক্ষিত ভাবে সৎ, নির্যাতিত ত্যাগী একজন সংগঠক। তার যোগ্য মূল্যায়ন সময়ের দাবি।
সিএনএফ টিভি।

Comments
Post a Comment