হাত বাঁধা বস্তাবন্দি সেই কিশোরীর ৩ হত্যাকারী গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা:
পাবনার সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক রহস্যও উদঘাটন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত রিয়া খাতুন (১৫) পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আজিজুল প্রামানিকের মেয়ে। তিনি স্থানীয় মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের বাসিন্দা মো. নাঈমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বুধবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে রিয়া নাঈমের বাড়িতে যান। সেখানে উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একপর্যায়ে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করলে নাঈম রিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
হত্যার পর ঘটনাটি গোপন করার উদ্দেশ্যে নাঈম তার দুই সহযোগী মো. ইয়াসিন শেখ ও তুহিন প্রামানিককে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। পরে তারা একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে করে মরদেহ পদ্মা নদীর তীরে নিয়ে ফেলে আসে বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য দিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর সার্বিক নির্দেশনায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট তাৎক্ষণিকভাবে ছায়া তদন্ত শুরু করে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে থানা পুলিশ, ডিবি ও ডিএসবির সদস্যদের সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
ডিবির একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, মানব গোয়েন্দা তথ্য এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই মূল অভিযুক্ত নাঈমসহ তুহিন ও ইয়াসিনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মরদেহ পরিবহনকারী সাদা রঙের প্রাইভেটকারটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার প্রকৃত কারণ, এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না এবং ঘটনার বিস্তারিত রহস্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সিএনএফ টিভি।
Comments
Post a Comment