ঋণের টাকা ও পরকীয়া—জাহিদ হত্যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ

খালেদ আহমেদ : পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সিলন্দা বাজার এলাকায় বড়াল নদী থেকে উদ্ধার হওয়া জাহিদ হাসান (৩৫) এর মৃত্যুকে ঘিরে পুলিশের তদন্তে উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে। নিহত জাহিদ হাসান চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের অমৃতকুন্ডা হাটপাড়া গ্রামের কাজেম প্রামাণিকের ছেলে। তিনি শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। নিখোঁজের দুই দিন পর সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলার সিলন্দা বাজার এলাকায় নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জাহিদের বাবা কাজেম প্রামাণিক বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার ২৮ মার্চ দুপুর সোয়া ১ টায় মুঠোফোনে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, “জাহিদের লাশের পোস্টমর্টেম সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলার তদন্তের দায়িত্ব নগরবাড়ি নৌ পুলিশের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।” তখনই মুঠোফোনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরবাড়ি নৌ পুলিশের এসআই মোঃ আইনুলের কাছে তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি জানান, “পোস্টমর্টেম রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।” সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা করা হয়েছে। তবে সেটির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃতি সম্পর্কে কিছু বোঝা গেছে কিনা—এ প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট কোনও উত্তর দেননি। বরং প্রতিবেদকের প্রশ্নে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আপনার যা খুশি, যেভাবে খুশি সংবাদ করেন, এতে আমার কিছু যায় আসে না।” এছাড়া তদন্তের অগ্রগতি, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা ভুক্তভোগীর পরিবারের বক্তব্য যাচাই—এসব বিষয়েও সন্তোষজনক কোনও তথ্য দিতে পারেননি তিনি। তার দাবি, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তদন্ত এগোনো সম্ভব নয়। অন্যদিকে, নিহতের পরিবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। জাহিদের বাবা কাজেম প্রামাণিক (৫৭) বলেন, “পুলিশের প্রতি আমরা আস্থা রাখতে পারছি না। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনও আসামি গ্রেফতার হয়নি। তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।” নিহতের বড় ভাই জাকির প্রামাণিক (৩৭) অভিযোগ করেন, “পুলিশ আসামিপক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে ছাড় দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “জাহিদের স্ত্রী দাবি করছে সে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। অথচ প্রতি মাসে তার বেতন জাহিদের হাতে তুলে দিত—এটা কি যুক্তিসঙ্গত? একজন মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির হাতে কি সংসারের সব দায়িত্ব দেওয়া হয়?” তিনি জানান, জাহিদ ডিস অ্যান্টেনার বিল সংগ্রহের কাজ করতেন এবং এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে তার যাতায়াত ছিল। স্থানীয়দের মতে, তার আচরণে কখনও মানসিক সমস্যার লক্ষণ দেখা যায়নি। জাকির প্রামাণিক আরও অভিযোগ করেন, জাহিদের স্ত্রী ছালমা খাতুন পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন এবং জাহিদের নামে থাকা জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। এছাড়া মৃত্যুর আগে জাহিদ আশা সমিতি থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ওই টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে জাহিদকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন পরিবার। নিহতের ছোট ভাই জিহাদ হাসান শুভ (১৭) জানান, জাহিদ চাটমোহর রেলবাজারে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। ঘটনার দিন ২০ মার্চ তাকে জোর করে ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। আগে থেকেই পরিকল্পনা করে সেখানে তাকে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, হত্যার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাহিদকে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। সোমবার দুপুরে স্থানীয়রা সিলন্দা বাজার এলাকার বড়াল নদীতে একটি ভাসমান মরদেহ দেখতে পান এবং খবর দেন পুলিশকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর আমরা থানায় গিয়ে মরদেহ সনাক্ত করি। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। — সিএনএফ টিভি

Comments

Popular posts from this blog

ঈশ্বরদীতে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার অনিয়ম ও সন্ত্রাসের অভিযোগ

পাবনা পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বই বিতরণে শিক্ষক উত্তমের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

পাবনায় বিদেশি রিভলভারসহ দুইজন গ্রেফতার