দীর্ঘ ১৭ বছর খুঁটির জোরে সরকারি দপ্তরে সাইফুন্নাহারের আধিপত্য
স্টাফ রিপোর্টার:
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পাবনা’র নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুন্নাহারকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা হয়েও নিজ জেলায় দীর্ঘদিন কর্মরত থাকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিতভাবে অফিসের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকেন না। সরেজমিনে অফিসে গিয়েও তার অনুপস্থিতির সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। ফলে গভীর নলকূপ সংক্রান্ত কাজে আগত সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অফিস সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তিনি প্রায়ই সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল খালেককে নিজ কক্ষে ডেকে দীর্ঘ সময় গল্পে মেতে থাকেন। এতে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং জনসেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জানা গেছে, সাইফুন্নাহার পূর্বে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে একই দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে উন্নীত হলেও তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে একই অফিসে বহাল আছেন। দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালনের ফলে তিনি কোনো নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা করছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজ জেলা পাবনায় পদায়ন ও বহাল থাকার অভিযোগও উঠেছে। বলা হচ্ছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিজ জেলায় পদায়ন নেন এবং সহকারী ও নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে গত প্রায় ১৬ বছর ধরে কর্মরত আছেন। একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার নিজ জেলায় পদায়ন হওয়ার সুযোগ না থাকলেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে তা নিশ্চিত করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে তার দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। তার আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ হাসানুজ্জামান পূর্বে বাধ্য হয়ে অন্যত্র বদলি হয়ে যান বলে জানা গেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সহকারী প্রকৌশলী মোঃ কামরুজ্জামানকে চাটমোহর জোনে যোগদানে বাধা সৃষ্টি করেন এবং তাকে প্রায় ২৪ মাস ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) করে রাখেন।
এছাড়া পাবনা জোনের সহকারী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পাবনা রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন সাইফুন্নাহার। সে সময় গাইবান্ধা থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী এজাদুল ইসলামকে পাবনা রিজিয়নে বদলি করা হলে, সহকারী প্রকৌশলী হওয়া সত্ত্বেও তিনি এজাদুল ইসলামের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা বদিউজ্জামান বাদশার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এজাদুল ইসলামকে অন্যত্র বদলি করানো হয় বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ সকল অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
সিএনএফ টিভি।
Comments
Post a Comment