ঈশ্বদীতে আবারও ককটেল বিস্ফোরন।। রেল লাইনে আগুন।। ভাংচুর


 সৌরভ কুমার দেবনাথঃ

সরকার পতনের এক দফা দাবিতে দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের ডাকা দ্বিতীয় দফা অবরোধের প্রথম দিনে পাবনার ঈশ্বরদীতে  মুহুর্মুুহু ককটেল বোমা বিস্ফোরণ, রেল লাইনে আগুন দেওয়া ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। 

রোববার ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে শহরের  রেলগেট এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। 


প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলগেটের দোকানদাররা জানান, ঘটনার সময় বিএনপি নেতা কারাবন্দি জাকারিয়া পিন্টু ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের ছবি সহ ব্যানার নিয়ে ২০-২৫ জনের একটি দল অবরোধের সমর্থনে শ্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা আশপাশ থেকে নারিকেলের ছোবড়া, পলিথিন কুড়িয়ে এনে রেল লাইনের উপর আগুন ধরিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করে। রেলগেটের কাছে একটি ট্রাকে হামলা চালিয়ে ট্রাকটির সামনের গ্লাস ভেঙ্গে ফেলে। তখন সাদা রংয়ের মাইক্রোবাস রাস্তা পার হতে অবরোধকারীদের সামনে দিয়ে যাবার সময় পরপর ৬ টি ককটেল বিস্ফোরন ঘটায় তারা।


ককটেল বিস্ফোরনের শব্দ ও আগুনের স্ফুলিঙ্গে এলাকায় আতঙ্ক ছরিয়ে পড়ে। মুহূর্তেই রেলগেট থেকে শুরু করে বাজার এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়কের সকল দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ দিক বিদিক ছুটাছুটি শুরু করে। 


খবর পেয়ে ঈশ্বরদী পৌর সভার মেয়র ইছাহক আলী মালিথা, যুবলীগ নেতা শিরহান শরীফ তমাল, মিলন চৌধুরী, তৌহিদুজ্জামান দৌলন বিশ্বাস, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মাসুদ রানা ও সজিব মালিথার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের কয়েকশত নেতাকর্মী বাঁশের লাঠি, লোহার পাইপ নিয়ে অবরোধকারীদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। 


পরে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা রেলগেটের পশ্চিমপাশে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর ব্যক্তিগত কার্যালয় ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের কার্যালয়  ভাঙচুর সহ অবরোধের বিরুদ্ধে শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করে।

ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনার পরই বিজিবি, র‌্যাব,  উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 


উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুবীর কুমার দাশ বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।  


ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও মেয়র ইছাহক আলী মালিথা বলেন , বিএনপি - জামায়াত আগুন সন্ত্রাসী দল। হরতাল অবরোধের নামে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে। জনগনের সম্পদ নষ্ট করে। তারা ককটেল বিস্ফোরন ঘটিয়ে জনগনের মনে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা চোরের মত চুরি করে বিস্ফোরন ঘটিয়ে পালিয়েছে। অবরোধকারীদের প্রতিহত করতে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনগুলোকে আরও সতর্ক হতে হবে। 


পাবনা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী, থানার ওসি অরবিন্দ সরকারসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অবরোধকারীদের নিক্ষেপ করা ককটেল বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই টহলে থাকা পুলিশ সদস্যদের মাইক্রোবাসটির গ্লাস ভেঙ্গে গেছে। নাশকতাকারীদের গ্রেফতার চেষ্টা চলছে।


সিএনএফ টিভি।

Comments

Popular posts from this blog

ঈশ্বরদীতে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার অনিয়ম ও সন্ত্রাসের অভিযোগ

পাবনা পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বই বিতরণে শিক্ষক উত্তমের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

পাবনায় বিদেশি রিভলভারসহ দুইজন গ্রেফতার