হিন্দু বৃদ্ধকে নির্যাতন ও মহিলাকে মিথ্যা অপবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
সৌরভ কুমার দেবনাথঃ
ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বর বাণেজ বাহিনী কর্তৃক ফনি দাস নামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক ৬৫ বছর বয়সের বৃদ্ধকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত বেধরক মারপিট করার অভিযোগ করে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী। বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে দৈনিক স্বতঃকন্ঠ'র ঈশ্বরদী কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন ফনি দাস ও প্রবাসীর স্ত্রী। যানা জায় বাণেজ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে চাঁদা দাবী করে। অন্যথায় ফনি দাসের সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক আছে সেটা ফাঁস করে দেবো বলে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে। বুধবার রাতে তারা সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে হানা দিলে ওই সময় তার বাড়িতে কাজ করা দিন মজুর ফনি দাস টাকা আনতে গেলে দেখে প্রবাসীর স্ত্রীকে বাণেজ বাহিনী আক্রমণ করেছে। সে নিজেকে বৃদ্ধ ভেবে ঠেকাতে গেলে তারা তার উপরও চরাও হয়। একপর্যায়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে আটক করে বেধরক মারধোর করে গুরুতর আহত করে মেম্বর বাণেজ বাহিনী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আহত ফনি দাসের ছেলে সুজন দাস বলেন মুলাডুলি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বর বাণেজ আলী ও তার বাহিনীর শফি (৪৫), বিল্লাল (৪২), সানা (৩৮), সোহেল (৩৭), হজরত শেখসহ (৫৮) ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী অরণকোলা, চক নারিচা বাঘবাড়িয়া ও বহরপুর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। আমরা ঈশ্বরদী থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেছি। কিন্তু নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি। এই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাদাবী, মেয়েদের সঙ্গে অশালিন আচরণ করা, কুপ্রস্তাব দেয়সহ নানা মুখি নির্যাতন ও অত্যাচার করে আসছে। গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রীর কাছ থেকে বাণেজ মেম্বারের বাহিনী শফি, বেল্লাল, সানা, সোহেল, হযরতসহ বেশ কয়েকজন তার বাড়িতে ঢুকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও চাঁদাদাবী করে। এসময় ওই স্ত্রী প্রতিবাদ করলে তারা তার গায়ে হাত তোলে। প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে আমার বাবা মজুরির টাকা আনতে গেলে মুরুব্বি হিসেবে শফিসহ অন্যান্যদের গালাগালি করতে নিষেধ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাবার সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্ক আছে দাবী করে তাকে আটক করে এক লাখ টাকা ও প্রবাসীর স্ত্রীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা চাঁদাদাবী করে। তারা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমার বাবাকে বাণেজ মেম্বরের বাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত আটকে রেখে বেদম মারধোর করে। গভীর রাতে
সাংবাদিক ও পৌর সভার কাউন্সিলর আবুল হাশেমসহ অন্যান্যদের হস্তক্ষেপে বাবাকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। এদিকে প্রবাসীর স্ত্রীসহ তার পরিবারের লোকজন লোক লজ্জার ভয়ে পরিবারের অন্যান্যদের নিয়ে গৃহবন্ধি হয়ে রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিত বেশ কিছু পরিবারের সদস্য ও সংখ্যালঘুু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে মেম্বর বাণেজ আলী বলেন, আমার কোন সন্ত্রাসী বাহিনী নেই। তারা সবাই আমার এলাকার লোক। আমি কারও কাছে চাঁদা চাইনি। ফনি দাসের সঙ্গে সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্ক আছে। লোকজন তাকে আটক করে মারপিট করেছে। এতে আমার কোন হাত নেই। ঈশ্বরদী থানার ওসি তদন্ত হাসান বাসীর বলেন, এই ঘটনায় পৃথক দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএনএফ টিভি।

Comments
Post a Comment